ডiary : গালুডি ২ : মৃগাঙ্কশেখর গঙ্গোপাধ্যায়


|

DIARY
AUTHOR
|গুড্ডুর বাড়িতে পৌঁছে জানলাম। সৌরভও ওর বাড়ি আসছে। আগে কথা ছিল ও কলেজের গেট টু গেদার পার্টি করে সকালে হাওড়া পৌঁছবে। আমি সৌরভের ওপর খুবই আস্থা রাখি। দুশ্চিন্তার বানাণ কি জানি না, তবে সেটাই হতে লাগল। টিকিট ও কেটেছে। ও সকালে যাওয়ার আগের মুহূর্তেও জানাতে পারে, আসতে পারছে না। বা ফোন করে দেখা গেল ফোন সুইজড অফ। এরকম বহুবার হয়েছে। যখন শুনলাম ও রাতেই চলে আসছে তখন কিছুটা চাপ কমল। গুড্ডুর প্ল্যান রাতে কেউ ঘুমাবে না। খেলা দেখে সকালে বেরনো হবে। ট্রেনে যেতে যেতে ঘুম। আমি জানালাম, খেলা দেখার কোন শখ আমার নেই। আমি ঘুমাবো। যদিও অনেক ভাবে ঘুমানোর চেষ্টা করেও পারলাম না। গুড্ডু ফোনে বক বক করতে ঘর বাথরুম করল। সৌরভ আমার ঘাড়ের ওপর উঠে সানি লিওন নিয়ে পড়ল। বালিশ চাপা দিয়ে , বিছানার নীচে ঢুকেও ঘুম এল না।
এর মধ্যে গুড্ডু জানতে পেরেছে তন্ময়ের সাথে সেই পার্শী সুন্দরী যাচ্ছে না। সে আদপে একজন বিখ্যাত মডেল। তন্ময়কে আমি বলেছিলাম, তুই মিউচুয়ালে আছিস এরকম একটা প্রোফাইল পাঠা। যাতে দেখে গুড্ডুর সন্দেহ না হয়। সৌরভ নিজেকে বুদ্ধিমান প্রমাণ করতে বলল, তুই কি বোকা রে গুগুলে সার্চ করলেই তো পেয়ে যেতিস। গুড্ডু বেচারা মুখ চুন করে বসেছিল। আমি দেখলাম, কষ্ট একেবারে পেয়ে গেলেই ভালো। স্টেশনে গিয়ে অনির্বাণকে দেখলে বেচারা আরো কষ্ট পাবে। তাই বলেই দিলাম। গুড্ডুর চুপ করে। বলল। আমি যাবো না। আমি একবার আমার ইজ্জত দিতে পারি। বারবার নয়। আমি ওকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করলাম। বললাম, আমি ওকে বারণ করে দেব। ও আমার কথা শুনবে। গুড্ডু – আগের বার কি করেছিলে তুমি? আমি মাথা নত করে বললাম, উৎসাহিত।
ট্রেন থামল গালুডিতে। স্টেশন মাটি থেকে দু ইঞ্চি উঁচুতে। গুড্ডু জানাল, বাবা বলেছে ট্রেনটা চলে গেলে রেল লাইন পেরিয়ে যেতে হবে। পেরোলাম। গেস্ট হাউসের নাম, রজনীগন্ধা। সৌরভ বুক করেছে। গেস্ট হাউসের ছবি দেখাতে বলেছিলাম। যেটা পাঠিয়েছিল, সেটা একটা ছাদে তিন বন্ধু দাঁড়িয়ে আছে। সেটা আমার আপনার বাড়ির ছাদও হতে পারে। আমি বললাম, এটা কি ছবি! গুড্ডু বলল, উফ এরকম একটা ছাদ যখন আছে তখন অসাধারণ গেস্ট হাউস। গেস্ট হাউসের সামনে পৌঁছে দেখলাম। একটা ভাঙ্গা বাড়ি। আমি সৌরভের দিকে করুণ মুখে তাকালাম। গেট দিয়ে ভেতরে ঢুকে ভুল ভাংলো। সামনে জঙ্গলের ভেতর দিয়ে রাস্তা উঠে গেছে। তারপর সিঁড়ি উঠে গেছে ওপরে। আমাদের গেস্ট হাউস। সামনে দিয়ে সেই ছাদ। যেখানে তিন বন্ধু দাঁড়িয়ে ছিল। দূরে পাহাড়। সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে।
গেস্ট হাউসে খাওয়ার দাওয়ার ব্যবস্থা জানতে গিয়ে দেখলাম। জন প্রতি দৈনিক তিনশো কুড়ি টাকা চাইছে। আমাদের পুরো বেড়ানোর বাজেট ১০০০। সুতরাং হোটেলের খোঁজ। অনেক খোঁজার পর ্যে হোটেল পেলাম। তাতে সবজি ভাত ২০ টাকা। আহা প্রাণ জুড়িয়ে গেল দাম শুনে। কিন্তু ্যা পেলাম, কুড়িটাকা নষ্ট করতেও তখন গায় লাগছে। মোটা ভাত কাকে বলে সেদিন বুঝলাম, সাথে উচ্ছে ভাজা, একটা ঘ্যট জাতীয় কিছু। নুন লঙ্কা আর আচার, একমাত্র যেটা দিয়ে আমরা পুরোটা ভাত খেলাম।  | |

Comments